দু’আর শক্তির অসাধারণ এক গল্প……

দু'আর শক্তির অসাধারণ এক গল্প......
Description

মিশরের এক মহিলার সাথে আশ্চর্যজনক এই ঘটনা ঘটে। তিনি মিশরের মনসুরা শহরে বসবাস করতেন। মহিলা নিজেই ঘটনাটি বর্ণনা করেনঃ আমার পরিবার ছিল খুব গরীব। আমার স্বামী কাজের জন্য শহরের বাহিরে গিয়েছিল এ কারনে আমি বাসায় একা ছিলাম।সেদিন রাতে হঠাৎ আমার ছোট দুই বছরের মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। তার প্রচন্ড কাঁপুনি দিয়ে জ্বর এসেছিল যা আগ কখনো হয় নি এবং আমি কিছুই করতে পারছিলাম না তার জন্য। আমার হাতে কোন টাকাই ছিল না রাতের খাবার কেনার জন্য! সেদিন সন্ধ্যায় খাবারের অভাবে আমরা প্রচন্ড ক্ষুধায় যন্ত্রনা পাচ্ছিলাম তার উপর মেয়ের ওষুধ কেনার মত কোন টাকাই ছিল না আমার হাতে! আমি খুব অসহায় বোধ করলাম আর জায়নামাজ নিয়ে সালাতে দাঁডিয়ে গেলাম। আর সালাতে আল্লাহর কাছে দু’আ করলাম আমাকে এই বিপদে সাহায্য করার জন্য। সালাত শেষ করে আল্লাহর কাছে দু’আ করে,আল্লাহর উপর তাওয়াককুল রেখে, আল্লাহকে ডাকতে ডাকতে আমি আমার মেয়ের কাছে গেলাম। সময় গড়িয়ে রাত গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে। রাত তখন বারোটা বেজে একটা হয়ে এলো। হঠাৎ করে আমি দরজায় কড়া নাড়ার ডাক শুনতে পেলাম! আমি ভেতর থেকে আওয়াজ দিলাম,” বাহিরে কে?” বাহির থেকে শব্দ আসলো, ”আমি ডাক্তার!” ডাক্তার! আমি দ্রুত হিজাব পরিধান করে নিলাম! ”দরজা খুলে আমি তাকে সালাম দিলাম। আসসালামু আলাইকুম।” ”ওয়া আলাইকুমস সালাম।” ডাক্তার বলল আপনার মেয়ে কই? আমি বললাম,” সেই রুমেই আছে, ভিতরে আসুন।” সে তারপর রুমে আসল। আমার মেয়েকে চেক’আপ করল। তারপর মেয়ের জন্য ওষুধ লিখে দিল! তারপর ডাক্তার যাওয়ার জন্য যখন উদ্যত হলো তখন আমাকে বলল, ”আমার পেমেন্ট টা প্লিজ?” যখনই পেমেন্টের কথা বলল, আমি কান্না শুরু করে দিলাম! আমার কান্না চলে আসলো! আমি বললাম,ডক্টর! আপনাকে পে করার মত আমার হাতে কোন টাকা নেই এই মূহুর্তে! ডাক্তার মুখে কিছুটা বিরক্তির ভাব এনে বললেন,” কি বলছেন এসব? এত রাতে আমি আপনার মেয়ের চিকিৎসা করতে আসলাম, আর আপনি বলছেন টাকা নেই! মানে কি? আপনার কি এ কথা বলতে একটু ও লজ্জা লাগলো না? আপনার তো লজ্জা হওয়া উচিত। আপনি এত রাতে আপনার মেয়েকে দেখার জন্য ফোন দিয়েছেন আর এখন বলছেন টাকা নেই? এটা কোন ধরনের অভদ্র আচরণ! আমি বললাম, ” ডাক্তার! ওয়াল্লাহি আমি আপনাকে কল দেই নি! আমার তো নিজের একটা ফোন ও নেই! তাহলে আমি আপনাকে কিভাবে ফোন দিলাম?” আজকে সন্ধ্যা থেকে আমরা কিছুই খাওয়ার মত পাইনি! ডাক্তার একটু রেগে গেলেন। তিনি বললেন,আপনি আমাকে যদি ফোন না দেন তাহলে কে ফোন দিল? তিনি আমাকে নাম্বার দেখিয়ে বললেন,এইটা কি আপনার বাসার নাম্বার না?” আমি বাসার নাম্বার দেখে বললাম, না এইটা আমার পরের বাসার নাম্বার। ডাক্তার তখন আশ্চর্য হয়ে গেল! ডাক্তার তখন বুঝতে পেরেছিল তাকে অন্য কেউ না সরাসরি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাই পাঠিয়েছেন আমাদের সাহায্য করার জন্য। ডাক্তার তখন আমাকে বলল, ”প্লিজ আমাকে ভিতরে নিয়ে চলুন, আমি আপানার ঘটনা শুনব! ডাক্তার আমাকে তখন জিজ্ঞেস করল, “আপনি কে? আর আপনার সাথে কি ঘটেছিল, আমাকে বলুন। এটা কিভাবে ঘটল! আমি তখন আমার পুরো ঘটনাটা বললাম। ডাক্তার পুরো ঘটনা শুনে চোখের পানি ছেড়ে দিল! ডাক্তার তখন বুঝতে পারলো এটা আমাদের প্রতি আল্লাহর একান্ত করুনা ছিল এবং এর পরে আমার মেয়ের জন্য নিজে ওষুধ কিনে আনল আর আমাদের রাতের খাবার ও নিয়ে আসলো! এবং ডাক্তার আমার জন্য মাসিক হারে কিছু টাকা দেওয়ার কথা প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেল।” (ঘটনাটি শাইখ আলি হাম্মুদার লেকচার থেকে অনুবাদকৃত, এবং কিঞ্চিৎ পরিমার্জিত) আমি ভাই বোনদের বলব আপনার ছোট বড় যেকোন প্রয়োজনে আল্লাহর কাছে চান,আল্লাহকে বলুন। রাসূল (ﷺ) বলেছেন,” তোমাদের সকলের উচিত সকল প্রয়োজনে রবের কাছেই চাওয়া,এমনকি জুতার ফিতা ছিঁড়ে গেলেও। (তিরমিযি) যিনি রাতের পর দিনে আনেন, মেঘের পর বৃষ্টি দেন, রোদের পর ছায়া দেন তিনি চাইলে আপনার জন্য মিরাকেল ও ঘটাতে পারেন। আমাদের যেটা করতে হবে দু’আ করে আল্লাহর উপর যথাযথ তাওয়াককুল আর দু’আ কবুলের দৃঢ় বিশ্বাস রাখতে হবে। ভাই বোনেরা আল্লাহর কাছে চাইতে কখনো লজ্জা, সংকোচ করবেন না। অবুঝ শিশু যেমন যেকোন জিনিস পাওয়ার জিদ রেখে তীব্র কান্নাকাটি করেও সেই জিনিস উদ্ধার করে আপনি ও শিশুর মত হয়ে যান। কেঁদেকেটে আল্লাহর কাছে বলুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.