রাসূল (সঃ) এর জীবনের শেষ ওসিয়ত

image
Description

রাসূল (সঃ) এর জীবনের শেষ ওসিয়ত

রাসূল সঃ মৃত্যুর আগমুহুর্তে প্রচন্ডভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন । কখনো জ্ঞান হারিয়ে ফেলছিলেন আবার জ্ঞান ফিরে পাচ্ছিলেন । সম্ভবত মাগরিবের সময় রাসূল সঃ একটু সুস্থতা বোধ করলেন । তখন রাসূল সঃ মসজিদে নববীতে গেলেন । মাগরিব এর নামাজ জামাতে আদায়ের পর রাসূল সঃ বললেন , “আজ থেকে মসজিদে নববীর চতুর্দিকের সকল দরজা বন্ধ হয়ে যাবে শুধুমাত্র আবু বকর রাঃ এর দরজাটা খোলা থাকবে ।”

রাসূল সঃ আরো বললেন , “আল্লাহ তায়ালা তার এক বান্দাকে পৃথিবীর যাবতীয় সব সম্পদ দিতে চেয়েছিলেন কিন্তু সে বান্দা আল্লাহর সাথে দেখা করা বেশী জরুরী বোধ করলেন ।” এতটুকু কথা বলার পর কেউই কিছু বুঝলোনা আবু বকর রাঃ ব্যতীত । সাহাবীরা লক্ষ করলেন আবু বকর রাঃ খুব কাঁদছেন ।
এরপর রাসূল সঃ গৃহে ফিরে গেলেন । তিঁনি আবার জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন । এশার নামাজের সময় তাঁর জ্ঞান ফিরে এলো ।

রাসূল সঃ আয়শা রাঃ কে জিজ্ঞেস করলেন, “এটা কোন নামাজের ওয়াক্ত .
আয়শা রাঃ বললেন, “মসজিদে এশার নামাজ চলছে। সাহাবীরা অনেকক্ষন অপেক্ষা করে আমার বাবার ঈমামতিতে নামাজ আদায় করছেন” । রাসূল সঃ পর্দাটা সরিয়ে দিতে বললেন । আয়েশা রাঃ যথারিতী তা করলেন । রাসূল সঃ বেশ কিছু সময় মসজিদের দিকে তাকিয়ে রইলেন । আয়েশা রাঃ লক্ষ করলেন রাসূল সঃ এর চোখের কোনে পানি । তিনি রাসূল সঃ কে জিজ্ঞেস করলেন , “চোখে পানি কেন ?” নবিজী তখন বললেন , “আয়েশা , এটা কোন দুঃখের পানি না । এটা তৃপ্তির পানি । এ নামাজ কায়েমের জন্য আমাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে । তায়েফে , বদরে , ওহুদে আমার অনেক রক্ত ঝরেছে ।

অনেক সাহাবীকে জীবন দিতে হয়েছে । আজ এ নামাজের দৃশ্য দেখে মনে হলো , কেয়ামত পর্যন্ত আমার উম্মতেরা এভাবে জামাতে নামায আদায় করবে ।” রাসূল সঃ মৃত্যুর আগ মুহুর্তে কোন প্রিয়জনের কথা বলেন নি , স্ত্রীদের কথাও বলেন নি । বললেন – “নামাজ- নামাজ , ও আমার উম্মতেরা নামাজ ছেড়ে দিয়ো না” ।

যে নবী মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নামাযের কথা বললেন তার ঊম্মত হয়েও আমরা আজ নামায আদায় করি না । অবহেলা করে নামায পড়ি না । ভাবি জীবনটা অনেক বড় , সময় আছে পরে পড়া যাবে । কিন্তু মরন আমাদের পেছেনে আলোর বেগে ধেয়ে আসছে । তাই এখনো সময় আছে নামায পড়ার …….

ইয়া উম্মাতি, ইয়া উম্মাতি, “হে আমার উম্মতেরা নামাজ, নামাজ..! নামাজ..!! 

Leave a Reply

Your email address will not be published.