সালাত আদায় করবেন খুশু খুজুর সাথে


সালাতে আমাদের অনেকের মনোযোগ ঠিক থাকেনা। আমরা বুঝি না আমরা কি পড়ছি, কি বলছি। সালাতে দাঁড়ালেই যেন দুনিয়ার সমস্ত চিন্তা চেপে বসে আমাদের মনে। তাকবির বলে হাত বাঁধার পরেই মনে হয়, ‘আচ্ছা, সালাতে আসার আগে ঠিকমতো দোকানের তালা লাগিয়েছি তো? আমার ফেইসবুক একাউন্ট থেকে লগ আউট হয়েছিলাম? আমার বাচ্চারা কি যেন নিতে বলেছিলো? বাজারের লিস্টের কি কি বাদ পড়ে গেলো? কাকে যেন আমার ফোন দেওয়ার কথা? অমুক আত্মীয়ের অসুখ। কেমন আছে এখন সে?’

কথা ছিলো, সালাতে দাঁড়ালে বান্দা কেবল তার রবের দিকেই রুজু করবে। কিন্তু শয়তান তা আর হতে দেয়না। সালাতে সে বান্দার মনকে নানানদিকে ডাইভার্ট করে রাখে যাতে বান্দা সালাতের আসল মজা থেকে বঞ্চিত হয় এবং রহমানের অনুগ্রহ থেকে সটকে পড়ে।
আপনি যদি কোন ভিআইপি কারো সাথে দেখা করতে যান, তখন সর্বাপেক্ষা উত্তম পোশাক পরিধান করেন, কোন গুরুত্বপূর্ণ মিটিং এ গেলে উত্তম পোশাক পরেন, কোন অনুষ্ঠানে গেলেও উত্তম পোশাক পরেন। সালাতে কার সাথে দেখা করতে যান আপনি ভাবতে পারেন? আপনার রবের সাথে দেখা করতে যান, তাঁর সাথে কথা বলতে যান, তাঁর সাথে আপনার কথোপকথন হয়। তাহলে সালাতে কেন ভালো ও উত্তম পোশাক পরিধান করেন না? এটা কি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না?
আপনিই তো বলেন যে সালাতে মন ধরে রাখতে পারি না, সালাতে ও সালাতের বাইরে খুশু (একাগ্রতা, নিমগ্নতা, ভয়) আসে না। দেখুন আল্লাহ কীভাবে বলেছেন সালাতের ব্যাপারেঃ
“হে আদম সন্তান, প্রত্যেক মাসজিদে (সালাত ও সালাতের সময়) সুন্দর পোশাক-পরিচ্ছদ গ্রহন করো।” (সূরা আরাফঃ ৩১)
খুশুর মাধ্যমে আপনার মধ্যে প্রশান্তি ও একাগ্রতার একটা বীজ এই পোশাকেই নিহিত রয়েছে। কীভাবে?
আপনি যখন একটি বিশেষ পোশাক পরিধান করবেন একজন বিশেষ কারো জন্য, তখন নিশ্চয়ই আপনার মন এই পোশাকের সাথে সেই বিশেষ কারো জন্যই নিমগ্ন থাকবে। তাহলে আপনি যখন পৃথিবীর কারো জন্য নয়, একমাত্র আল্লাহর জন্য একটি বিশেষ পোশাক পরিধান করবেন তখন কি অন্যদিকে আপনার মন চলে যেতে পারে? না, পারে না। কারণ এই পোশাক পরিধানের একটাই লক্ষ্য, সেই লক্ষ্যের দিকেই আপনার মন একাগ্রভাবে নিমগ্ন। এভাবে সালাতের ভেতরে একাগ্রতা ও নিমগ্নতা আনতে পারেন। তাহলে চিন্তা করে দেখুন আল্লাহ কেন সালাতে উত্তম পোশাক পরিধান করতে বলেছেন, তাঁর সাথে প্রশান্তির অনুভূতি জাগানোর জন্য, তাঁর সাথে উত্তম কথোপকথনের মাধ্যমে প্রশান্তি অর্জনের জন্য।
আরেকটি বিষয় হল আমরা সালাতের বাইরেও এই খুশু পাই না, আল্লাহর ভয় কাজ করে না; কারণ এই সালাতের ভেতরেই রয়েছে। সালাত যেহেতু যাবতীয় মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে, আর যদি না রাখে তবে নিশ্চয়ই আমার সালাতে সমস্যা আছে। তাহলে সমস্যা কোথায়? কেন আমি আমার চক্ষুকে খুশুর মাধ্যমে সালাতের বাইরে অবনত করতে পারি না?
এখানেও পোশাকেই একটা ওষুধ আছে। চিন্তা করুন, আপনি একটি সুন্দর পোশাক পরিধান করে, মাথায় টুপি বা পাগড়ি দিয়ে সালাত আদায় করলেন, বা মেয়েরা তাদের মত উত্তম পোশাক পরিধান করে সালাত আদায় কর। সালাত থেকে আপনি যখন এই পোশাক নিয়ে বের হবেন, তখন কি পারবেন এই পোশাক ও টুপি পড়ে অন্য ছেলে বা মেয়ের দিকে তাকাতে? নাহ, কারণ এই পোশাকই আপনাকে বাধা দিবে। কারণ এই পোশাক একজন বিশেষ কারো জন্য। তাহলে আল্লাহর জন্য যখন এই পোশাক পরিধান করে তাঁর সাথে দেখা করতে যাই, তাঁর আদেশ-নিষেধ মানতে যাই, এই একই পোশাক পড়ে কি আমি তাঁর বিরোধিতা করতে পারব? না, পারব না।
এভাবেই আল্লাহর জন্য, তাঁর আদেশে উত্তম পোশাক পড়তে পারলে আমাদের ভেতরেও খুশু আসবে ইন-শা-আল্লাহ।