পবিত্র জুমাতুল বিদা পালিত

আজ জুমাতুল বিদা। আজ রহমতের মাসের শেষ জুমা। জানি না আগামী বছরের এই দিনটি আমরা আবার পাব কি না।

এই দিনে ঈমানদার মুত্তাকিদের হৃদয়ে রমজানুল মোবারকের বিদায়ী সুর বেজে ওঠে। জুমার নামাজ আদায়ের পর মুসল্লিরা আল্লাহর দরবারে মাগফিরাত কামনা করে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলমান জুমাতুল বিদার সকাল থেকেই মসজিদে জড়ো হতে থাকেন। আজকের জুমার নামাজ শেষে সব মসজিদে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হবে।

সংযম সাধনায় আমাদের জীবন ও সমাজে যেন শান্তি ও স্বস্তি ফিরে আসে, মাবুদের কাছে আজ সেই মিনতি জানাবে সমগ্র মুসলিম উম্মাহ। আজকের এই দিনটি ঐতিহাসিক আল কুদস দিবস হিসেবেও মুসলিম উম্মাহর কাছে পরিচিত।

মুসলমানদের প্রথম কেবলা পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাসকে দখলমুক্ত করার আন্দোলনের প্রতীকী দিন এটি। মসজিদুল আকসা বা বায়তুল মুকাদ্দাস বছরের পর বছর ইহুদিদের দখলে রয়েছে। ফিলিস্তিনের মূল অধিবাসীদের অধিকাংশকে বিতাড়িত করে ১৯৪৮ সালের ১৫ মে ইহুদিরা সেখানে অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল প্রতিষ্ঠা করে।

১৯৬৭ সালে ইসরাইল বায়তুল মুকাদ্দাস দখল করে। এরপর থেকে বায়তুল মুকাদ্দাসকে দখলমুক্ত করার জন্য সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে আল কুদস দিবস পালিত হয়ে আসছে। পবিত্র রমজানের শেষ জুমার দিনকে আল কুদস দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক আল কুদস দিবস ইমাম খোমেনির আহ্বানে ১৯৭৯ সালে ইরানে প্রথম শুরু হয়েছিল। এ দিবস পালনের উদ্দেশ্য হল ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ, জায়নবাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ এবং ইসরাইল কর্তৃক জেরুজালেম দখলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ। জেরুজালেম শহরের অপর নাম ‘কুদস’ বা ‘আল কুদস’। নবীজি (সা.)-এর মক্কার মসজিদুল হারাম, মদিনার মসজিদুন্নবী ও বায়তুল মুকাদ্দাস মসজিদের উদ্দেশে সফরকে বিশেষভাবে সওয়াবের কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ পবিত্র ঘর থেকেই তিনি মিরাজ ভ্রমণ করেছিলেন। বায়তুল মুকাদ্দাস মসজিদ এবং তার আশপাশের এলাকা বহু নবীর স্মৃতিবিজড়িত স্থান। হজরত ইবরাহিম (আ.) কাবাঘর নির্মাণের ৪০ বছর পর হজরত ইয়াকুব (আ.) জেরুজালেমে আল-আকসা মসজিদ নির্মাণ করেন। এরপর হজরত সুলায়মান (আ.) এই পবিত্র মসজিদের পুনঃনির্মাণ করেন। নানা কারণে আজকের দিনটি মুসলমানদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। জুমাতুল বিদা আর আল কুদসের এই পবিত্র দিবসে আমাদের আত্মপর্যালোচনা করতে হবে সিয়ামের মাসব্যাপী এ কর্মশালা থেকে আমি কতটা মুত্তাকি হতে পারলাম। আমার মধ্যে মনুষ্যত্ববোধ জাগ্রত হয়েছে কি?

ধৈর্য ও সংযমের পাশাপাশি পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ, সহমর্মিতা, সম্প্রীতি ও কল্যাণকামী মানসিকতার কতটা উন্নতি হল আমার। এ দেশের ভুখানাঙ্গা মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবের সঙ্গে সঙ্গে ফিলিস্তিনসহ পৃথিবীর যে কোনো দেশের, যে কোনো ধর্মাবলম্বী মজলুম মানুষের জন্য আমার আত্মা যদি এখনও কেঁদে না ওঠে তাহলে আমার এ সালাত, এ সিয়াম সবই বৃথা যাবে।

আল্লাহতায়ালা বলেন, আর তোমাদের কী হল! কেন তোমরা আল্লাহর পথে সংগ্রাম করছ না অথচ অসহায় নারী-পুরুষ এবং শিশুরা আমার কাছে ফরিয়াদ করছে, হে আমাদের পালনকর্তা! তুমি আমাদের এই জনবসতি থেকে উঠিয়ে নাও (কেন না) এখানকার অধিবাসীরা জালেম। তুমি আমাদের জন্য অভিভাবক নির্ধারণ করে দাও, আমদের জন্য প্রেরণ কর সাহায্যকারী। (সূরা নিসা-৭৫)

লেখক : পরিচালক, ফিদায়ে মিল্লাত ইন্সটিটিউট

islamissk@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published.