মসজিদ মাদরাসায় যৌন হয়রানীর অভিযোগ- কয়েকটি পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ: মুফতি আহমাদ উল্লাহ

 মুফতি আহমাদ উল্লাহ
(১) হুজুররাও মানুষ, তারা ফেরেশতা নন। তাদেরও কামনা-বাসনা ও প্রবৃত্তির তাড়না আছে। সুতরাং লক্ষ লক্ষ হুজুরের মধ্যে দু’চারজন দ্বারা অন্যায় কিছু হয়ে গেলে মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়া বা চোখ কপালে উঠে যাওয়া যুক্তিযুক্ত নয়।
(২) আমরা কে না জানি, মিডিয়া সব সময় চমক সৃষ্টি ও ভিন্নধর্মী সংবাদ প্রচারে বিশেষ চেষ্টা করে। হুজুরদের দ্বারায় সচরাচর অপরাধ খুববই কম সংঘটিত হয়। সেজন্য ইসলামী লেবাসধারী কারো কোন নেতিবাচক খবর পেলেই তারা বিশেষ গুরুত্বের সাথে হাইলাইট করে। সেই সাথে বেশিরভাগ মিডিয়া বামপন্থী হওয়ার কারণে এ ধরণের সংবাদ তারা হলুদ মিশিয়ে প্রচার করে।




(৩) তারপরও এটা অস্বিকার করবার উপায় নেই যে নানা কারণে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে যৌন ক্যালেঙ্কারীর ঘটনা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য কয়েকটি পরামর্শ:

(ক) মসজিদ স্টাফদের নিয়োগে বিবাহিত এবং যথেষ্ঠ বয়স্ক হওয়ার শর্ত আরোপ করতে হবে। সেই সাথে তাদের জন্য ফ্যামিলি বাসার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

(খ) মসজিদের মকতব এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে মনিটরিং বলতে কিছুই থাকে না। শিক্ষক একাই যেভাবে খুশি পরিচালনা করেন। সুতরাং প্রথমত: সিসি ক্যামেরার আওতায় আনতে হবে, দ্বিতীয়ত: সার্বিক মনিটরিং অব্যাহত রাখতে হবে। তাহলে একজন মানুষ খারাপ প্রকৃতির হলে সেটা বড় কিছু ঘটার পূর্বেই ধরা পড়ে যাবে।

(গ) সব ধরণের আবাসিক মাদরাসার সকল বিভাগ সম্পূর্ণ সিসি টিভির আওতায় আনতে হবে এবং শিক্ষক ও স্টাফদের জন্য আচার-আচরণ সম্পর্কিত কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

(ঘ) আবাসিক মাদরাসায় কোনভাবেই ঢালাও বিছানা সিস্টেম রাখা যাবে না। অবশ্যই প্রত্যকে ছাত্রের জন্য পৃথক খাটিয়া-বেডের ব্যবস্থা থাকতে হবে।




(ঙ) শ্রেণীকক্ষ আর আবাসন একসঙ্গে রাখা যাবে না।

(চ) মাদরাসা শিক্ষকদের ফ্যামিলি সাথে রাখার সুযোগ এবং সেজন্য উপযুক্ত থাকতে হবে।

(ছ) মহিলা মাদরাসায় কোন অবস্থাতেই পুরুষ শিক্ষক বা স্টাফ নিয়োগ দেওয়া যাবে না। কেবল একজন বৃদ্ধ প্রহরী রাখা যেতে পারে। পুরুষ আগন্তুক বা অভিবাবকের সাথে যোগাযোগ হবে প্রহরীর মাধ্যমে। সকল প্রকার লেনদেন ইত্যাদি হবে স্ব স্ব সন্তান বা প্রহরীর মাধ্যমে। উল্লেখ্য, সৌদি আরবে মেয়েদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেবল প্রহরী থাকেন পুরুষ। প্রয়োজনে সেখান থেকে প্রয়োজনীয় আইডয়িা নেওয়া যেতে পারে।




কোন প্রতিষ্ঠান অর্থের অভাবে এসব আয়োজন করতে না পারলে তাদের আবাসিক প্রতিষ্ঠান করা অনুচিত।

এসব বিষয় খেয়াল করলে সমস্যার দুয়ার অনেকখানি বন্ধ হয়ে যাবে ইন শা আল্লাহ। নীতি ও আদর্শের শেষ ঠিকানা-মাদরাসাগুলো থেকে মানুষের আস্থা হারিয়ে গেলে মুসলিমদের ভরসার জায়গাটুকুও শেষ হয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.